নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রশ্নবিদ্ধ অনুমোদন ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি পেলেন সাংবাদিক পরিচয়ে পর্যবেক্ষণ কার্ড, প্রশ্নের মুখে ইসির যাচাই প্রক্রিয়া
- আপডেট সময় : ১২:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১২৯ বার পড়া হয়েছে

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিক পরিচয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ড সংগ্রহ করা এক ব্যক্তিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ওই ব্যক্তির বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায়। নির্বাচন কমিশনের কাগজপত্র অনুযায়ী তাকে মুক্তাগাছা উপজেলায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হলেও, বাস্তবে তিনি সারাদেশব্যাপী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন বলে দাবি করছেন—যা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।
আরও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে তার দাবি করা যাতায়াত ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি নাকি বিমানে করে দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিক মহলেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—একজন ব্যক্তি কীভাবে স্বল্প সময়ে সারাদেশের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন এবং তার জন্য কি কোনো বিশেষ সুবিধা বা আলাদা উড়োজাহাজ বরাদ্দ রয়েছে?
বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে তার অতীত পরিচয় সামনে আসার পর। জানা গেছে, মাত্র কয়েকদিন আগেই তিনি ছাগল চুরির একটি মামলায় ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করে কারাগার থেকে মুক্তি পান। অভিযোগ রয়েছে, কারামুক্তির পরপরই তিনি সাংবাদিক পরিচয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কার্ড সংগ্রহ করেন।
এ অবস্থায় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার ও মাঠপর্যায়ের বহু সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ড পেতে নানা জটিলতা ও যাচাইয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন, সেখানে ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি কীভাবে সহজেই এই কার্ড পেলেন? তার অপরাধমূলক অতীত যাচাই না করেই কীভাবে তাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হলো?
এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের মতো সংবেদনশীল দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই হয়েছে কি না—তা নিয়েও জনমনে সন্দেহ দানা বাঁধছে।
সাংবাদিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দ্রুত স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে এই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হবে এবং নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।













